ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন দেশটির জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। তিনি জানান, অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও নিখুঁত এই অভিযানে নাম ছিলো ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’। কয়েক বছরের চেষ্টায় এই অভিযানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়।ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে কেইন বলেন, আমেরিকার স্থানীয় সময় শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত অভিযানটি শুরু করে পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বি-২ বোমারু বিমান উড্ডয়নের সময় কৌশল হিসেবে পশ্চিমে উড়ে যায়। ১৮ ঘণ্টা উড়ে চারটি বি-২ বোমারু ইরানের আকাশে পৌঁছায়।কেইন বলেন, শনিবার ভোর পাঁচটায় একটি মার্কিন সাবমেরিন ইরানের ইস্পাহান পারমাণবিক স্থাপনায় প্রধান ভূপৃষ্ঠের অবকাঠামো করে দুই ডজনেরও বেশি টমাহক ল্যান্ড অ্যাটাক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
বি-২ বিমান ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করার সাথে সাথে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করাসহ বেশ কিছু কৌশল ব্যবহার করে, কারণ চতুর্থ ও পঞ্চম প্রজন্মের বিমানগুলো অতি উচ্চতায় এবং উচ্চ গতিতে হামলা চালায়। প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অকেজো করেই হামলা চালানো হয়।
তিনি আরও বলেন, নাতাঞ্জ ও ফোর্দোর স্থাপনার কাছে পৌঁছানোর পর যুক্তরাষ্ট্র বি-২ বোমারু বিমানের নিরাপদ উড্ডয়ন নিশ্চিত করতে যুদ্ধবিমানের সঙ্গে উচ্চক্ষমতা জ্যামার ব্যবহার করা হয়েছে।
সন্ধ্যা ছয়টা ৪০ মিনিটের দিকে ফোর্দো পারমাণবিক স্থাপনায় প্রধান বি-২ বোমারু বিমান দুটি বিশাল বাঙ্কার-বাস্টার বোমা নিক্ষেপ করে। কেইন বলেন, অবশিষ্ট বোমারুগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে। সন্ধ্যা সাতটার মধ্যেই এসব বোমা ফেলা হয়েছে। অতিরিক্ত লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত করা হয়েছিল।
ইরানে স্থানীয় সময় রোববার ভোর ২:১০টা নাগাদ হামলার সময় নির্ধারিত ছিলো। কেইন বলেন, মোট ১৪টি জিবিইউ-৫৭ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর বা বাঙ্কার ব্লাস্টার ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এরপর মার্কিন সেনাবহর বাড়ি ফেরত যেতে শুরু করে। কেইন বলেন, প্রবেশ বা বের হবার পথে ইরান আমেরিকার দিকে কোনও গুলি ছোড়েনি। মিশন শেষ করে নিরাপদে দেশে ফিরে যায় বোমারু বিমান বহরটি।তিনি বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে কোনো ধরনের গুলি ছোড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এই মার্কিন জেনারেল আরও বলেন বলেন, ইরানের যুদ্ধবিমান আকাশে ওড়েনি, মনে হচ্ছে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আমাদের শনাক্তই করতে পারেনি।
0 Comments